বন্ধ কারখানা চালু ও সুদহার কমানোর আভাস নতুন গভর্নরের
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 27 Feb, 2026
উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যাংক ঋণের সুদহার বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
প্রায় তিন বছর ধরে চলা এ নীতির প্রভাবে ঋণের সুদহার উঠেছে ১৪-১৫ শতাংশে। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ বাড়াতে সুদহার কমানোর আভাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালুর নির্দেশনাও দিয়েছেন। গভর্নর হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্তির পর গতকাল এ পদে যোগদান করে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জানানো হয়েছে।
বুধবার গভর্নর পদে নিয়োগ পাওয়া মোস্তাকুর রহমান বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকে আসেন। তিন ডেপুটি গভর্নরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান। গাড়ি থেকে নেমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশের সময় গণমাধ্যম কর্মীরা তার কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চান। তিনি বলেন, ‘এসেছি; আগে কাজ শুরু করি; তারপর কথা বলা যাবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আমরা একটু কম কথা বলব।’
বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশ করে নতুন গভর্নর ডেপুটি গভর্নর, বিএফআইইউ প্রধান ও প্রধান অর্থনীতিবিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর নির্বাহী পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। বৈঠক শেষে দুপুরের পর মোস্তাকুর রহমান সচিবালয়ে যান। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বের হওয়ার সময়ও তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের এড়িয়ে যান। আবার সচিবালয়ে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে গভর্নরের পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেয়ার পর ডেপুটি গভর্নর ও নির্বাহী পরিচালকদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন। বৈঠকে দেশের ব্যাংক খাতসহ অর্থনীতির চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গভর্নর বলেছেন, অর্থনীতিকে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানমুখী করতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। একই সঙ্গে চলমান সংস্কারকাজ অব্যাহত থাকবে।’
নতুন গভর্নর অন্তর্বর্তী সরকার ও সদ্য সাবেক গভর্নরের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এখন লক্ষ্য হচ্ছে সেই স্থিতিশীলতাকে ভিত্তি করে অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনা। বিশেষ করে গত দেড় বছরে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প-কারখানাগুলো আবার চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিগত সহায়তা, প্রয়োজনীয় অর্থায়নের সুবিধা ও ব্যাংক খাতে সমন্বয় জোরদার করবে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।’
গভর্নর বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখাকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, এমন উচ্চ সুদের হারের বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পুরোপুরি নিয়মভিত্তিক ও বৈষম্যহীন করা হবে। কাজের গতি বাড়াতে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ানো হবে।’
সরকারের অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমেই অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা সম্ভব। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাবমূর্তি সমুন্নত রেখে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নতুন গভর্নর গণমাধ্যমে বক্তব্য দেয়ার ক্ষেত্রে সংযমী থাকবেন বলেও জানান মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তিনি বলেন, গভর্নর করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তাই কথা বলার ক্ষেত্রে আমরা সংযমী হব। তবে তথ্যপ্রবাহ অব্যাহত রাখতে একজন মুখপাত্রের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হবে।
এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জানানো হয়, নতুন গভর্নর কাজে যোগ দিয়ে ১১টি বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। এর মধ্যে সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রেখে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বন্ধ কলকারখানা ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান চালু, উচ্চ সুদহার পর্যালোচনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলো রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিক্ষোভ, বিশৃঙ্খলা ও মবের মুখে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বিদায় নেন। ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট গভর্নর পদে চার বছরের জন্য এ অর্থনীতিবিদকে নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। বুধবারই তার অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে মোস্তাকুর রহমানকে নতুন গভর্নর পদে নিয়োগ দেয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১৪তম গভর্নর হিসেবে যোগদানকারী মোস্তাকুর রহমান পেশায় একজন ব্যবসায়ী।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

